WHISPER OF THE BLOOD MOON পর্ব_২
WHISPER_OF_THE_BLOOD_MOON
{ 🔴 আতিরিক্ত রোমান্টিক ডার্ক এলার্ট 🔴 }
🚫 অনুমতি ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫
ক্রিমসনভেইল লুথেইনের বিশাল প্রাসাদ চারদিকে কালো মার্বেলের দেয়াল, লাল মোমবাতির আলোয় ঝিকমিক করছে ঠান্ডা বাতাসে লাল গোলাপের মাদক সুবাস। আয়জারাকে কোলে নিয়ে ড্রেভেন বিশাল সিংহাসন কক্ষে ঢুকলো। মাঝখানে একটা উঁচু, কালো পাথরের সিংহাসন যেন রক্তে গড়া।
সে আয়জারাকে সিংহাসনের পাশে নামিয়ে দিলো তার লাল চোখে আগুন জ্বলছে। আয়জারা পিছিয়ে যেতে চাইলো, কিন্তু তার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল ড্রেভেন তার সামনে এসে দাঁড়ালো অসম্ভব কাছে তার শরীরের গরম তার ত্বকে লাগছে।
শোনো ভালো করে, **মাই ফাকিং স্কারলেট সাইরেন**,ড্রেভেনের গলা নিচু, কিন্তু প্রতিটা শব্দ যেন ছুরির ফলার মতো ধারালো। সে তার চোয়াল শক্ত করে আয়জারার চোখে চোখ রাখলো। আমার সাথে বেইমানি করবে না, আমার থেকে পালানোর চেষ্টা করবে না। তাহলে কিন্তু তোমাকে মেরে ফেলতে আমার এক সেকেন্ড ও সময় লাগবে না,, তুমি আমার শুধু আমার চিরকালের জন্য।
আয়জারার শরীর কাঁপছে তার চোখে ভয়, কিন্তু তার সাথে একটা অজানা আকর্ষণও মিশে গেছে সে মাথা নাড়লো, আমি… আমি তোমার না…কথাটা ফিসফিসের মতো বেরোলো।
ড্রেভেন হাসলো ঠান্ডা, বিপজ্জনক হাসি। ভালো মেয়ের মতো মেনে নাও না হলে…সে তার আঙুল আয়জারার গাল বেয়ে নামিয়ে ঘাড়ে রাখলো তার নখ হালকা চাপ দিলো
আয়জারা চমকে উঠলো।
রাত গভীর হলো ড্রেভেন তাকে তার বিশাল শয়নকক্ষে নিয়ে গেল আয়জারা সারারাত কাঁদলো, কিন্তু তার শরীর ড্রেভেনের স্পর্শে অদ্ভুতভাবে গরম হয়ে উঠছিল সকাল হতে না হতেই সে সিদ্ধান্ত নিল পালাতে হবে।
যখন ড্রেভেন গভীর ঘুমে, আয়জারা চুপিচুপি বিছানা থেকে নেমে পড়লো তার পা কাঁপছে, কিন্তু সে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল প্রাসাদের লম্বা করিডর, তারপর বাগান তুষারে ডাকা পথে সে দৌড়াতে লাগলো। ঠান্ডা বাতাস তার গাল কাপছে, কিন্তু সে থামলো না আমি পালাবো… আমি ফিরে যাবো… সে নিজেকে বলতে লাগলো।
কিন্তু বেশি দূর যেতে পারলো না। হঠাৎ একটা কালো ছায়া তার সামনে এসে দাঁড়ালো ড্রেভেন তার চোখে আগুন চুল উশকোখুশকো,যেন সেকেন্ডের মধ্যে ছুটে এসেছে
**হারামির বাচ্চা**সে দাঁতে দাঁত চেপে বললো আমি তোকে বারবার বলছিলাম আমার সাথে বেইমানি করবি না
আয়জারা পিছিয়ে যেতে গেল, কিন্তু ড্রেভেন তার চুলের মুঠি ধরে শক্ত করে টেনে ধরলো তার মাথা পিছনে হেলে গেল ব্যথায় আয়জারার চোখে জল এসে গেল ছাড়ো… প্লিজ…
তোকে একেবারে মেরে ফেলবো না,ড্রেভেন তার কানের কাছে ফিসফিস করলো, গলায় ঘৃণা, রাগ আর অসম্ভব জেদ মিশে তোকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারবো আমার সাথে বেইমানি করার ফলে **হারামির বাচ্চা**
সে তাকে জোর করে কোলে তুলে নিয়ে প্রাসাদে ফিরে গেল শয়নকক্ষে ছুঁড়ে ফেলে দিলো বিছানায় আয়জারা চিৎকার করতে গেল, কিন্তু ড্রেভেন তার উপর ঝাপিয়ে পড়লো তার ওজন তার শরীর চেপে ধরলো।
যা হলো তারপর সেটা কোনো ভালোবাসা ছিল না ঘৃণা, রাগ, জেদ আর অন্ধ পজেসিভনেসের আগুন। ড্রেভেন তার ঘাড়ে, কাঁধে, বুকে, পেটে পুরো শরীরে কামড় দিয়ে দাগ বসালো। তার নখের আঁচড় তার পিঠে, বাহুতে লাল রেখা কেটে দিলো আয়জারা কাঁদছিল, ধস্তাধস্তি করছিল, কিন্তু তার শক্তি তার কাছে কিছুই না।
প্রতিটা কামড়ের সাথে সে ফিসফিস করছিল, এটা তোমার শাস্তি… এটা মনে রাখবে… তুমি আমার…তার চোখে কোনো কোমলতা ছিল না শুধু অন্ধ ক্ষুধা আর মালিকানার আগুন।
যখন সব শেষ হলো, আয়জারা কাঁপতে কাঁপতে বিছানায় পড়ে রইল তার শরীরে লাল দাগ, রক্তের ফোঁটা ড্রেভেন তার পাশে শুয়ে তার চুলে আঙুল বুলিয়ে দিচ্ছে যেন কিছুই হয়নি। তার গলা আবার মধুর হয়ে এসেছে এখন বোঝো, আমার ফা*কিং স্কারলেট সাইরেন পালানোর চেষ্টা আর করো না তুমি আমার চিরকাল।
আয়জারার চোখে শুধু অশ্রু কিন্তু তার হৃদয়ের কোথাও একটা অদ্ভুত গরম ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ের সাথে মিশে.......
সকালের আলো ক্রিমসনভেইলের প্রাসাদে ডোকার চেষ্টা করছে, কিন্তু ভারী পর্দাগুলো সব আলো গিলে নিয়েছে। ঘরে শুধু লাল মোমবাতির ক্ষীণ আলো আয়জারা বিছানায় পড়ে আছে শরীরে গত রাতের লাল দাগগুলো এখনো জ্বলছে কামড়ের চিহ্ন, নখের আঁচড়, রক্তের শুকনো ফোঁটা,তার চোখ ফোলা, কিন্তু ভিতরে একটা অদ্ভুত শূন্যতা।
ড্রেভেন তার পাশে বসে তার লাল চোখে এখনো গত রাতের আগুন বাকি সে আয়জারার চুলে আঙুল বুলিয়ে দিচ্ছে খুব আস্তে, যেন সে একটা ভাঙা পুতুল
উঠো, আমার স্কারলেট সাইরেন,তার গলা নরম, কিন্তু নীচে লুকানো ছুরি আজ থেকে তুমি আর কখনো পালানোর কথা ভাববে না
আয়জারা ধীরে ধীরে চোখ খুললো তার গলা কাঁপাছে, কিন্তু ভিতরে একটা শেষ জেদ জ্বলছে সে ফিসফিস করে বললো, “আ.....আ...আপনি জোর করে আমার দেহ পাবেন… কিন্তু আমার মন কখনো পাবেন না কখনো না"
ড্রেভেনের ঠোঁটে একটা বিপজ্জনক হাসি ফুটে উঠলো সে তার চিবুক ধরে মুখটা তুলে ধরলো চোখে চোখ রেখে **মাই ফাকিং স্কারলেট সাইরেন**… অপাদত তোমার দেহ পেলে চলবে সময় হলে এমনিতেই মন দিয়ে দিবে তুমি নিজেই আমার কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসবে।
আয়জারার চোখে জল চলে এলো সে মাথা ঝাঁকালো আমি আপনাকে ভালোবাসি না
আমি… আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি
ঘরে হঠাৎ একটা মৃত্যুর মতো নীরবতা নেমে এলো, ড্রেভেনের হাত থেমে গেল তার চোখ সরু হয়ে গেল যেন একটা শিকারী তার শিকারের গলায় দাঁত বসানোর আগে।
আচ্ছা… তাই নাকি তার গলা এত নিচু যে কাঁপছে,,তাহলে তোমার সেই ভালোবাসার মানুষ টার নামটা একটু শুনি, স্কারলেট সাইরেন
আয়জারা চোখ বন্ধ করে ফেললো তার ঠোঁট কাঁপছে। রেইভান… নামটা তার গলা থেকে বেরোলো ফিসফিসের মতো
ড্রেভেন চুপ করে রইলো এক সেকেন্ড,,তারপর হঠাৎ জোরে হাসতে লাগলো একটা পাগলাটে, ভাঙা হাসি “ভালোবাসে… ভালোবাসে… ভালোবাসে" সে নিজেকে নকল করে বললো, হাসতে হাসতে,,“আমাকে নয়, স্কারলেট সাইরেন নাকি অন্য পুরুষকে ভালোবাসে
হাসি থামলো হঠাৎ তার মুখ পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল সে আয়জারার চুলের মুঠি ধরে টেনে তুললো ব্যথায় আয়জারা চিৎকার করে উঠলো
“হারামি" ড্রেভেন দাঁতে দাঁত চেপে বললো আমার রাজ্যে দাঁড়িয়ে, আমার সামনে তুই অন্য পুরুষের নাম নিস এবার শুধু দেখবি তোর চোখের সামনে তাকে কী করে শেষ করি
সে আয়জারাকে ছুঁড়ে ফেলে দিলো বিছানায়। তারপর দরজার দিকে হাঁক দিলো, মেইডরা
দরজা খুলে গেল দুজন কালো পোশাকের মেয়ে মেইড ঢুকলো ড্রেভেনের গলা ঠান্ডা, কিন্তু প্রতিটা শব্দে বিষ এই হারামিকে অন্য রুমে নিয়ে যাও আমার চোখের সামনে দেখতে চাই না হাতে-পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখবে এক ফোঁটাও যাতে নড়তে না পারে...
দুইজন মেইড আয়জারাকে ধরে তুললো সে ধস্তাধস্তি করছিল, কাঁদছিল, না… প্লিজ… রেইভানকে কিছু করবেন না… কিন্তু তার কান্না ড্রেভেনের কাছে পৌঁছালো না।
আয়জারাকে নিয়ে যাওয়ার পর ঘরটা খালি হয়ে গেল ড্রেভেন একা দাঁড়িয়ে রইলো। তার হাত কাঁপছে,,সে দেয়ালে ঘুষি মারলো রক্ত বেরিয়ে এলো তারপর আরেকটা গার্ডকে ডেকে বললো, রেইভান নামের ছেলেটাকে ধরে আনো যেখান থেকেই হোক জ্যান্ত চাই
গার্ড চলে যেতেই ড্রেভেন বিছানায় বসে পড়লো তার বুকের ভিতর একটা অসহ্য জ্বালা। আয়জারা কে ছাড়া থাকতে… তার শরীর, তার গন্ধ, তার কান্না—সবকিছু ছাড়া সে এক মুহূর্তও থাকতে পারছে না। তার চোখে জল চলে এলো—প্রথমবার কিন্তু সে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে দমিয়ে রাখলো।
তুমি আমার হবে, স্কারলেট সাইরেন,সে ফিসফিস করলো। যদি তোমার মন না পাই… তাহলে পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দেব। কিন্তু তোমাকে ছাড়বো না......!
চলবে.......

