WHISPER OF THE BLOOD MOON পর্ব_৩

 

                                                       

WHISPER_OF_THE_BLOOD_MOON

{ 🔴 অতিরিক্ত রোমান্টিক ডার্ক এলার্ট 🔴 }
{🚫 অনুমতি ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫 }
ক্রিমসনভেইলের প্রাসাদের অন্ধকার দালানে রাত নেমেছে বাইরে ঝড় উঠেছে
বজ্রপাতের আলোয় মাঝেমাঝে লাল দেয়ালগুলো রক্তের মতো জ্বলে উঠছে। ভূগর্ভস্থ কারাগারে আয়জারা বসে আছে। তার হাত-পা শিকলে বাঁধা, শরীরে গত রাতের দাগগুলো এখনো জ্বালা করছে। চোখ ফোলা, ঠোঁট কাটা। কিন্তু তার মনে শুধু একটা নাম রেইভান।
সে ফিসফিস করে প্রার্থনা করছে, “দয়া করে… তাকে কিছু করো না…
উপরের হলঘরে ড্রেভেন দাঁড়িয়ে তার হাতে একটা লাল ওয়াইনের গ্লাস, কিন্তু সে পান করছে না। চোখ লাল রাগে, ঈর্ষায়, আর একটা অসুস্থ ভালোবাসায় দরজা খুলে গেল
গার্ডরা রেইভানকে টেনে-হিঁচড়ে ঢোকালো তার হাত বাঁধা, মুখে রক্ত, কিন্তু চোখে এখনো জেদ। সে ড্রেভেনকে দেখে থুথু ফেললো মেঝেতে।
তুই… তুই এই হারামি ড্রেভেনের গলা ঠান্ডা, কিন্তু ভিতরে আগুন
রেইভান হাসলো—ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেও। হ্যাঁ। আর তুই যে জোর করে অন্যের জিনিস কেড়ে নেয়
ড্রেভেনের ঠোঁট কেঁপে উঠলো সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। হাতটা তুলে রেইভানের গালে এমন চড় মারলো যে তার মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো অন্যের জিনিস আয়জারা আমার
চিরকালের জন্য আমার
রেইভান মাটিতে পড়ে গেল, কিন্তু আবার মাথা তুললো। সে তোকে ভালোবাসে না কখনো বাসবে না তুই শুধু তার শরীরের মালিক… তার হৃদয়ের না
ড্রেভেনের চোখে পাগলামি ফুটে উঠলো সে গার্ডদের ইশারা করলো তারা রেইভানকে ধরে দাঁড় করালো। ড্রেভেন তার পকেট থেকে একটা ছোট ছুরি বের করলো ধার এত তীক্ষ্ণ যে আলোতে জ্বলে উঠলো।
তাহলে দেখি… তোর রক্ত দেখলে তার হৃদয়টা কার দিকে ঝুঁকে
নীচের কারাগারে আয়জারাকে টেনে-হিঁচড়ে আনা হলো দরজা খুলতেই তার চোখ রেইভানের দিকে গেল। সে চিৎকার করে উঠলো, রেইভান....না শিকলের ঝনঝন শব্দে সে এগোতে চাইলো, কিন্তু কয়েক জন মেয়ে গার্ডরা ধরে রাখলো তার চোখে অশ্রু আর ভয়।
রেইভান তাকে দেখে চোখ বন্ধ করলো এক মুহূর্ত আয়জারা… আমি ঠিক আছি ভয় পেয়ো না। ড্রেভেন আস্তে আস্তে রেইভানের কাছে গেল ছুরিটা তার গলার কাছে ধরলো এক ফোঁটা রক্ত বেরিয়ে এলো। বল, স্কারলেট সাইরেন… এখনো তাকে ভালোবাসিস
আয়জারার ঠোঁট কাঁপছে সে কাঁদছে,প্লিজ… তাকে ছেড়ে দাও… আমি… আমি তুমি যা চাও তাই করব…
ড্রেভেন হাসলো একটা ঠান্ডা, ভাঙা হাসি যা চাই তুমি তো আমার কাছে আছই কিন্তু এই হারামির জন্য তোমার চোখে এত অশ্রু সে ছুরিটা নামিয়ে রেইভানের বুকে চাপ দিলো
কাপড় কেটে গেল, চামড়া কেটে গেল রক্ত বেরোতে লাগলো।
রেইভান দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা সহ্য করলো, কিন্তু একটা চিৎকারও করলো না। আয়জারা কাঁদতে কাঁদতে চেঁচিয়ে উঠলো, থামো প্লিজ থামো.... আমি… আমি তোমাকে ভালোবাসি বলব… শুধু তাকে ছেড়ে দাও
ড্রেভেন থেমে গেল তার চোখে একটা উন্মাদ আলো সে ঘুরে আয়জারার দিকে তাকালো বলো এখনই বলো... আমার চোখে চোখ রেখে বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো আর এই হারামিকে না....
আয়জারার চোখ রেইভানের দিকে রেইভান মাথা নাড়লো ‘না বলিও না’ বলে। কিন্তু আয়জারার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে রেইভানের বুক থেকে রক্ত ঝরছে সে কাঁপা গলায় বললো, “আ… আমি… তোমাকে… ভালোবাসি… ড্রেভেন…”
রেইভানের চোখে ব্যথা ফুটে উঠলো যেন ছুরি তার হৃদয়ে বিঁধলো।
ড্রেভেনের মুখে একটা বিজয়ের হাসি সে ছুরি ফেলে দিয়ে আয়জারার কাছে এগিয়ে গেল। তার চিবুক ধরে মুখ তুলে ধরলো জোরে চুমু খেলো রক্তাক্ত ঠোঁটে ভালো "মেয়ে মাই ফা*কিং স্কারলেট সাইরেন.....
তারপর সে ঘুরে রেইভানের দিকে তাকালো একে এখনো মারব না। জ্যান্ত রাখব যাতে প্রতিদিন তোমার চোখের সামনে তার রক্ত দেখে মনে করিয়ে দিই তুমি কার।
সে গার্ডদের বললো,এই হারামিকে কারাগারে ফেলে দাও আর আমার স্কারলেট সাইরেনকে… আমার কক্ষে নিয়ে যাও। আজ রাতে তার অশ্রু আমি নিজের হাতে মুছে দেব।
আয়জারাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো তার চোখে শুধু শূন্যতা। রেইভানের দিকে শেষবার তাকিয়ে সে ফিসফিস করলো, দুঃখিত.....
ড্রেভেন একা দাঁড়িয়ে রইলো তার বুকে একটা অসহ্য জয়ের জ্বালা কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে জানে আয়জারার মন এখনো তার না আর সেটা পাওয়ার জন্য সে আরো গভীর অন্ধকারে নামবে।
তুমি আমার হবে পুরোপুরি, স্কারলেট সাইরেন, ড্রেভেন নিজেকে বললো যদি না হও… তাহলে এই পুরো রাজ্যকে তোমার অশ্রুতে ডুবিয়ে দেব.....
চলবে......
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url