WHISPER OF THE BLOOD MOON পর্ব_৪
WHISPER_OF_THE_BLOOD_MOON
{
অতিরিক্ত রোমান্টিক ডার্ক এলার্ট
}
(
অনুমতি ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ
)
ক্রিমসনভেইলের প্রাসাদে রাত গভীর হয়েছে বাইরের ঝড় থেমে গেছে, কিন্তু ভিতরে একটা নীরব ঝড় চলছে যেটা শুধু দুটো হৃদয়ের মাঝে।
ড্রেভেনের শয়নকক্ষে আলো কম,শুধু চিমনির আগুন আর কয়েকটা মোমবাতি জ্বলছে, যার আলোয় দেয়ালে লাল ছায়া নাচছে। আয়জারাকে মেইডারা এনে রেখে গেছে। তার হাতের শিকল খোলা হয়েছে, কিন্তু পায়ে এখনো একটা হালকা চেইন যেন সে পালাতে না পারে। সে বিছানার কোণে বসে আছে, মাথা নিচু,চোখে অশ্রু শুকিয়ে গেছে, কিন্তু হৃদয়ে এখনো জ্বলছে।
ড্রেভেন তার কক্ষে ঢোকে দরজা বন্ধ করলো,, তার হাতে একটা সিল্কের কাপড় আর এক গ্লাস গরম দুধ-মধু মেশানো ওয়াইন। সে চুপচাপ আয়জারার সামনে বসে তার চোখে আজ রাগ নেই শুধু একটা গভীর, অসহায় ভালোবাসা।
তুমি খেয়েছ তার গলা নরম, যেন কোনো শিশুকে জিজ্ঞেস করছে। আয়জারা মাথা নাড়লো—না সে তাকাচ্ছে না।
ড্রেভেন ধীরে তার হাত ধরলো আয়জারা চমকে উঠলো, কিন্তু টানলো না। তার হাত ঠান্ডা। ড্রেভেন সেই হাতটা নিজের দুহাতের মাঝে নিয়ে ঘষতে লাগলো যেন উষ্ণতা দিচ্ছে
তোমার হাত এত ঠান্ডা কেন, স্কারলেট সাইরেন আমি তো তোমার পাশেই আছি...
আয়জারার ঠোঁট কাঁপলো,,**তুমি… তুমি তাকে আঘাত করেছ…**
ড্রেভেনের চোখে এক মুহূর্তের ব্যথা ফুটে উঠলো সে মাথা নিচু করলো জানি আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। তোমার চোখে তার জন্য অশ্রু দেখে… আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমি জানি তুমি আমাকে ঘৃণা করো কিন্তু আয়জারা… আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারি না।
সে উঠে দাঁড়ালো, ওয়াইন এর গ্লাসটা আয়জারার হাতে দিল খাও,তোমার শরীর দুর্বল হয়ে গেছে আমি চাই না তুমি কষ্ট পাও....
আয়জারা গ্লাসটা ধরলো, কিন্তু চোখ তুলে তাকালো ড্রেভেনের মুখে আজ অন্যরকম একটা কোমলতা ,, সে আস্তে আস্তে তার পাশে বসলো। সিল্কের কাপড়টা দিয়ে আয়জারার চোখের নীচের শুকনো অশ্রুর দাগ মুছিয়ে দিতে লাগলো এত নরমভাবে, যেন সে কোনো ফুলের পাপড়ি স্পর্শ করছে।
তুমি যখন কাঁদো… আমার হৃদয়টা ছিঁড়ে যায়, ড্রেভেন ফিসফিস করে বললো,,,আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না আমি শুধু চাই তুমি আমার হয়ে যাও… পুরোপুরি। তোমার চোখে শুধু আমি তোমার হৃদয়ে শুধু আমি....
আয়জারা চুপ করে রইলো তার ভিতরে একটা যুদ্ধ চলছে ঘৃণা আর… কিছু একটা যেটা সে স্বীকার করতে চায় না। ড্রেভেনের এই কোমলতা, এই যত্ন এগুলো তার হৃদয়ের একটা অংশকে নাড়া দিচ্ছে।
ড্রেভেন তার চিবুক ধরে মুখ তুলে ধরলো এবার জোর করে নয়, অনুরোধের করলো আমার দিকে তাকাও, আয়জারা আমি তোমার চোখে নিজেকে দেখতে চাই
আয়জারা তাকালো ড্রেভেনের চোখে আজ শুধু ভালোবাসা গভীর, উন্মাদ, কিন্তু খাঁটি। ড্রেভেন ধীরে তার কপালে ঠোঁট ঠেকালো। একটা দীর্ঘ, নরম চুমু। তারপর গালে, চোখে, ঠোঁটের কোণে। প্রতিটা চুমুতে যেন বলছে **আমি তোমাকে ভালোবাসি, শুধু তোমাকে**
**তুমি আমার স্কারলেট সাইরেন**তোমার গান শুধু আমার জন্য , তোমার অশ্রু শুধু আমার হাতে মোছা হবে। আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে যাব না… কারণ তুমি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ.....
আয়জারার হাত কাঁপছে সে নিজেও জানে না কেন, তার হাতটা ড্রেভেনের বুকে রাখলো
সেখানে তার হৃদয়ের ধুকপুকুনি শুনতে পেলো দ্রুত, উন্মাদ।
আমি… আমি আপনাকে ঘৃণা করি,আয়জারা কাঁপা গলায় বললো ,, কিন্তু তার চোখে এবার অশ্রু নয় একটা বিভ্রান্তি।
ড্রেভেন হাসলো একটা দুঃখী, কোমল হাসি। সে আয়জারাকে জড়িয়ে ধরলো, তার মাথা নিজের বুকে টেনে নিল। ঘৃণা করো কিন্তু আমার কাছে থেকো,,একদিন… এই ঘৃণা ভালোবাসায় বদলে যাবে ,,, আমি অপেক্ষা করব চিরকাল অপেক্ষা করব,, তোমার মুখে ভালোবাসি শব্দ টা শুনার জন্য আমার স্কারলেট সাইরেন....
আয়জারা তার বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলেও তার হৃদয়ে এখনো রেইভানের নাম, কিন্তু ড্রেভেনের উষ্ণতা… তার যত্ন… এগুলো ধীরে ধীরে একটা ফাটল ধরাচ্ছে। সে জানে না এটা ভালোবাসা, নাকি তার ভাঙা মনের শেষ আশ্রয়...
ড্রেভেন তার চুলে আঙ্গুল চালাতে চালাতে ফিসফিস করলো, **ঘুমাও, আমার স্কারলেট সাইরেন। আমি সারা রাত তোমাকে জড়িয়ে রাখব কোনো দুঃস্বপ্ন তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। কারণ আমি আছি....
আয়জারা চোখ বন্ধ রাখলো তার শরীর শিথিল হয়ে এলো। প্রথমবার অনেকদিন পর… সে একটু শান্তি পেলো,,যদিও সে জানে, এই শান্তির পরিনাম ভয়ংকর....
ভূগর্ভস্থ কারাগারে রেইভান শিকলে বাঁধা তার বুকের ক্ষত জ্বালা করছে,কিন্তু তার চোখে শুধু আয়জারার শেষ কথা,, **দুঃখিত**
দুটো হৃদয় একটা অন্ধকারে ভাঙছে, আরেকটা অন্ধকারে ভালোবাসছে...…
চলবে.......
